|
সংবাদ
|
|
নানা আনুষ্ঠানিকতার ভেতর দিয়ে ঢাকা ও গোপালগঞ্জে
পালিত হলো কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ'র ৫০তম জন্মোৎসব।।কবির হাতে তুলে দেয়া হলো সম্মাননা স্মারক
সম্মাননা স্মারক তুলে দিচ্ছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ।।ফুলের তোড়া দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সুকান্ত বিশ্বাস।।ঢাকার অনুষ্ঠানে দর্শকদের একাংশ।।কবির প্রাইমারি স্কুলে অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন কবি
এনওয়াইনিউজ৫২: ১২ এপ্রিল ২০১৭, বুধবার, সন্ধ্যায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ'র ৫০তম জন্মজয়ন্তী উৎসব। প্রধান অতিথি কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেন, “আমি অন্যপাঁচজন কবির থেকে হাসানআলকে একটু বেশী ভালোবাসার অনেকগুলো করণের একটি হলো তিনি একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। কোনো কবি যদি বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করেন, তিনি যতোবড়ো প্রতিভাবন হন না কেনো, আমার কাছে তার কোনো মূল্য নেই। হাসানআল আব্দুল্লাহ শুধু “নক্ষত্র ও মানুষের প্রচ্ছদ” ও “স্বতন্ত্র সনেট” দিয়েই আমাকে আকর্ষণ করেননি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষে তাঁর নানা কর্মকাণ্ডও আমাকে নাড়া দিতে পেরেছেন।”
২০১৬ সালে কবির চীন সফর ও হোমার মেডেল প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করে গুণ আশা করেন যে হাসানআল বাংলা কবিতাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা এনে দেবে। অনুষ্ঠানের সভাপতি, ভয়েজ অব আমেরিকা ও বিবিসির প্রাক্তন সাংবাদিক মমতা শামীম চৌধুরী বলেন, “হাসানআল আব্দুল্লাহ ইতিমধ্যে কবিতায় তাঁর স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের জন্যে আন্তর্জাতিক স্মীকৃতি পয়েছেন। তাঁর এই স্মীকৃতি চূড়া স্পর্শ করার আগে বাংলাদেশও তাঁকে রিকগনাইজড করুক আমি সেটা দেখতে চাই।” তিনি বলেন, “বাংলা একাডেমীর কর্তাব্যক্তিরা আগামী ফেব্রুয়ারিতে আমাদের এমন আরেকটি উৎসব করার ক্ষেত্র তৈরি করে দেবেন বলে আমি আশা করি।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুথিনিলয় প্রকাশনার স্বত্বাধিকারী শ্যামল পাল, কবি ও শিক্ষাবিদ দিলারা হাফিজ, ধ্রুবপদ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী আবুল বাশার ফিরোজ ও সহকারী সচিব ড. মোহাম্মদ আমীন। অনুষ্ঠানে এক পর্যায়ে আসেন আনোয়ারা সৈয়দ হক। তিনি হাসানআল আব্দুল্লাহকে ফুলের তোড়া উপহার দেন। কবির নানা কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি তাঁর বক্তব্যে কবিকে অভিনন্দন জানান।
কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ'র সৃজনশীল কর্মকাণ্ড নিয়ে মূল্যায়নধর্মী আলোচনায় আরো অংশ নেন হুমায়ূন কবির ঢালী, রেজা ঘটক, দিপু শিকদার, দিলদার হোসেন, তুষার প্রসূন, মর্জিনা ইয়াসমিন, সৈকত হাবীব, ও মাহবুব আলাম প্রমুখ। কবিকে উৎসর্গকৃত কবিতা পড়ে শোনান মতিন রায়হান। নতুন ধারার সনেট ও মহাকাব্যের মাধ্যমে বাংলা কবিতায় বিশেষ অবদানের জন্য কবি হাসানআল আব্দুল্লাহর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জন্মজয়ন্তী উদযাপন পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা কবি নির্মলেন্দু গুণ। অনুষ্ঠানে কবির কবিতা আবৃত্তি করেন সানজিদা কাজী, নাহিদা আশরাফী ও সুরাইয়া হেনা।কবির রচিত সংগীত পরিবেশন করেন নাজলী ইয়াসমিন দ্বিতীয়া । কবির ৫০ পূর্তি উপলক্ষে পুথিনিলয় প্রকাশিত গ্রন্থ “কাব্য অভিযাত্রী: হাসানআল আব্দুল্লাহ” উপস্থিত সবার হাতে তুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ৫০পূর্তি উদযাপন কমিটির সমন্বয়কারী কবি রনি অধিকারী।
ওদিকে পহেলা বৈশাখ, কবির জন্মদিনে, এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগ। বিভাগীয় প্রধান, অধ্যাপক সুকান্ত বিশ্বাস, এবং বাংলা ও ইংরেজী বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা শুরুতেই কবিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠানে কবির কবিতা ছাড়াও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, জীবনানন্দ দাশ, নির্মলেন্দু গুণ, হুমায়ুন আজাদ ও রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কবিতা পাঠ করেন শিক্ষার্থীরা। বাঁশি বাজিয়ে ও উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শুনিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেন তারা। শিক্ষকদের মধ্যে আরো অংশ নেন অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, অধ্যাপিকা জাকিয়া সুলতানা মুক্তা ও অধ্যাপক মো: রাকিবুল ইসলাম।ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অংশ নেন চয়ন মল্লিক, আল আমিন, রিপন ঘরামি, সত্যজিত মণ্ডল, শশী প্রসাদ শীল, পিয়া মণ্ডল, সীমা রায়, মাইনুল ইসলাম সাগর, এনামুল হক প্রমুখ। কবিতা পড়েন স্থানিয় কবি গাজী লতিফ ও শরিফুল ইসলাম। তাছাড়া একই দিনে কবিকে নিয়ে একাধিক আসর বসে তাঁর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে। এসব অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ে ছাত্র শিক্ষকেরা অংশ নেন। সবগুলো আয়োজনেই কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ তাঁর কাব্যযাত্রার নানা দিক তুলে ধরেন; তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বৈশাখের কথা, মুক্তিযুদ্ধের কথা, মুক্তিযুদ্ধের শহীদের কথা, মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর কথা। তিনি বেশ কিছু কবিতাও আবৃত্তি করে শোনান। এর আগে কবির জন্মভিটায়, বৈশাখের প্রথম প্রহরে, কবি জননী কবিকে মিষ্টিমুখ করান ও তাঁর হাতে ভুলের তোড়া তুলে দেন। দূর দূরান্ত থেকে আত্মিয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব জড়ো হন, বনভোজনসহ আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন। উল্লেখ্য কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ ১৩৭৪ বাংলা সালের পহেলা বৈশাখ গোপালগঞ্জ জেলার ঘোনাপাড়া গ্রামে তাঁর মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। কবির পৈত্রিক নিবাস একই জেলার গোপীনাথপুর গ্রামে। এ পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা গদ্যে-পদ্যে ৩৭। তাঁর কবিতা অনূদিত হয়েছে সাতটি ভাষায়। তিনি ‘শব্দগুচ্ছ’ সম্পাদক ও নিউইয়র্ককের হাইস্কুল সিস্টেমে গণিতের শিক্ষক। জন্মোৎসবের এ সব অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি মাত্র ছয় দিনের সফরে দেশে আসেন।
|
|
|
|