|
সংবাদ
|
|
মৃত্যু ভয়ে ভীত নই। জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি বরদাস্ত করবো না।--প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
এনওয়াইনিউজ৫২: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উত্তাল জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে দেশের চলমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা ভবিষ্যতেও যেন অব্যাহত থাকে সেজন্য দেশবাসীর কাছে সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, বাংলাদেশের সত্যিই দিন বদল শুরু হয়েছে। এ অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করব না। অনেক ষড়যন্ত্র, চড়াই-উতরাই পার হয়ে দেশকে আমরা এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। মৃত্যু ভয় আমি করি না, মৃত্যুর আগে মরতে চাই না। যতক্ষণ দেহে জীবন আছে ততক্ষণ দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে ও তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাব। যেদিন দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারব, দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তুলতে পারব, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে পারব সেদিনই আমার জীবন সার্থক হবে।
প্রধানমন্ত্রী দেশের কিছু সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশের কিছু মানুষ আছে তাদের চোখে কোন উন্নয়নই পড়ে না। শুধু তারা চায় নৌকা ঠেকাতে। আসলে এরা দেশের অস্তিত্ব ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সামনে বন্যা আসছে, তারা কী নৌকায় চড়বে না? নৌকার অপরাধটা কী? দেশের জনগণ নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই স্বাধীনতা পেয়েছে, মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার পেয়েছে, দেশ খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, দেশ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে। মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই বাংলাদেশ আজ পারমাণবিক ও স্যাটেলাইটের এলিট ক্লাবের সদস্য হয়েছে, সমুদ্রসীমা থেকে মহাকাশ জয় করেছে। যারা নৌকা ঠেকাতে চান তারা কী দেশে আবারও রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমতায় আনতে চান? তিনি বলেন, এসব মানুষ হচ্ছে সামরিক স্বৈরাচারের উচ্ছিষ্ট খেয়ে নিজেরা সম্পদশালী, বিত্তশালী হয়েছে, বিদেশে অবৈধ অর্থের পাহাড় গড়েছে। এরা দেশের স্বাধীনতায় ও গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। এদের মুখে এসব কথা মানায় না। এরা কখনও দেশবাসীকে আর বিভ্রান্ত করতে পারবে না।
আওয়ামী লীগের উদ্যোগে তাকে দেয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেশের সকল সফলতা ও অর্জন দেশবাসীর প্রতি উৎসর্গ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের একটি কবিতার পঙ্ক্তি উচ্চারণ করে বলেন, ‘এই মণিহার আমার নাহি সাজে। আমার কোন সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। আমি জনগণের সেবক। জনগণের কল্যাণে কতটুকু করতে পারলাম, তাদের ভাগ্যের কতটুকু পরিবর্তন করতে পারলাম, দেশের কতটুকু উন্নতি করতে পারলাম সেটাই আমার কাছে প্রধান বিবেচ্য ও লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন সবার জন্য অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও উন্নত জীবন। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন পূরণই আমার একমাত্র লক্ষ্য। কোন উৎসব-অনুষ্ঠানে যাই না, দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ ঘণ্টা ঘুম ছাড়া বাকি পুরো সময় দেশের জন্য কাজ করি। আমার কোন চাওয়া-পাওয়ার নেই, আমার একটাই লক্ষ্য দেশ ও মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়ন। সে লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। আমার কোন কিছুর প্রয়োজন নেই। শুধু একটি জিনিস দেখতে চাই। বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে উঠেছে।
(সূত্র: জনকণ্ঠ)
|
|
|
|