নিউজ৫২: ৪ এপ্রিল, রবিবার, জাতিসঙ্ঘের সামনে একাত্তরের ঘাতক ও দালালদের বিচারের দাবীতে সমবেত হয়েছিলেন নিউইয়র্ক নিউজার্সি কানেটিকাট ও পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত অসংখ্য স্বাধীনচেতা বাঙালী নরনারী। মানবতার বিরুদ্ধে সংগঠিত ১৯৭১ সালে ভয়াবহ অপরাধের মূল হোতাদের বিচার কার্যকর ও তাদের ফাঁসির জোরালো দাবীতে মুহূর্মুহু শ্লোগানের মাধ্যমে জাতিসঙ্ঘের সামনের পার্কটি হয়ে উঠেছিলো ঢাকার রাজপথ। নতুন প্রজন্মের বলিষ্ঠ কণ্ঠ এবং শিশুরাও বাদ যায়নি এই আয়োজনে শরীক হয়ে ‘একাত্তরের হাতিয়ার,/ গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস/ জাস্টিস জাস্টিস’ এবং ‘জাস্টিস ফর/ ওয়ার ক্রাইম’ ইত্যাদি শ্লোগানে আকাশ কাঁপানো আওয়াজ তুলতে। প্লাকার্ড, ফেস্টুন ও নানা রকম কার্টুনের ভেতর দিয়ে সকলেই একাত্তরের ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন। পাশ দিয়ে ছুটে যাওয়া মার্কিনী এবং বিদেশী কুটনীতিকও শরীক হয়েছেন এই র্যালিতে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর বিভিন্ন শাখার নেত্রীবৃন্দ, কর্মী ছাড়াও উপস্থিত হয়েছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ও উদিচি শিল্পীগোষ্ঠীর নেতানেত্রী ও কর্মীরা। দুপুর ১টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত চলে এই র্যালি। র্যালি শেষে টেলিফোনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সরকারের আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, নিউজার্সি থেকে আগত বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুন নবী প্রমুখ। বিশিষ্ট লেখক বেলাল বেগ বলেন, “আমাদের হাতে এখনও অস্ত্র আছে। এই নতুন যুদ্ধে আমরা জয়ী হবোই।” একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক শাখার সাধারণ সম্পাদক, নাজনীন সীমন, দালালদের বিচারের দাবীতে উপস্থিত প্রায় সাড়ে তিনশত নরনারীর স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। র্যালিতে আরো যোগ দেন বিশিষ্ট গল্পকার জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মাদ উল্লাহ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক শাখার সভাপতি শফি আহমেদ, বিশিষ্ট মানবাধিকার নেতা সউদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক কবিতা পত্রিকা ‘শব্দগুচ্ছ’ সম্পাদক হাসানআল আব্দুল্লাহ, আলোকচিত্র শিল্পী ওবায়দুল্লাহ মামুন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যুক্তরাষ্ট্রের কোঅর্ডিনেটর আল আমিন সহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লেখক সাহিত্যিক ও সাংবাদিকবৃন্দ।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার: পাকিস্তান
ঢাকা, এপ্রিল ০৫, নিউজ৫২: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে সঙ্ঘটিত অপরাধীদের বিচারে পাকিস্তান কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার আশরাফ কোরেশি ।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে পরিপূর্ণভাবে বিশ্বাসী এবং আস্থাশীল। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আরো গভীর করতে চাই। আমরা পরস্পর ভাতৃপ্রতিম দেশ। ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকেও আমরা বাংলাদেশকে সহযোগিতায় বিশ্বাসী। তবে বর্তমান সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের যে উদ্যোগ নিয়েছে এটা তাদের একান্ত নিজস্ব ব্যাপার। এ ব্যাপারে আমাদের আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য নেই।
পাকিস্তান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধীতা করছে এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যাতে না হয় এ ব্যাপারে বিভিন্ন দেশে লবিং করছে বলে এতোদিন জনমনে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিলো জনাব কোরেশির বক্তব্যের ভেতর দিয়ে তার অনেকটাই অবসান হলো বলে বিশিষ্ট মহল মনে করছেন।
কোরেশি আরো বলেন, "বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে পাকিস্তান সম্মান করে। এ বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের হস্তেক্ষেপের প্রশ্নই আসে না।"
বিচার এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বহির্বিশ্বে পাকিস্তান লবিং করছে কিনা- জানতে চাইলে কোরেশি বলেন, "আমরা কোনো প্রচার চালাচ্ছি না। বিষয়টি মিডিয়া তৈরি করেছে। আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।"
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনা সদস্যকে ফেরত দেবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এ বিষয়টি যুদ্ধের পরপই সিমলা চুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।"
কুখ্যাত বাচ্চু রাজাকার এখন এনটিভিতে ইসলামিক প্রোগ্রাম করেন
নিউজ৫২: ৭১ সালে ফরিদপুরের ত্রাস কুখ্যাত বাচ্চু রাজাকার এখন এনটিভিতে ইসলামিক প্রোগ্রাম সহ 'জিজ্ঞাসা' নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। দাড়িতে মিহেদীর
গাঢ় রং লাগিয়ে মুখ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নানা ভঙ্গিতে তিনি হাজারো রকমের ফতোয়া দেন বাংলাদেশের সরলমতি মানুষের উদ্দেশ্যে। অথচ এই বাচ্চু রাজাকার
হাজারো মুক্তিযোদ্ধার প্রাণ নাস, মা-বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠন, বাড়ি বাড়ি অগ্নি সংযোগসহ নানা রকম দুষ্কর্মের হোতা। এই রাজাকার সম্পর্কে দৈনিক জনকণ্ঠের রিপোর্টে
মামুন-অর-রশিদ লিখেছেন, "মুক্তিযুদ্ধকালীন নরঘাতক, মা-বোনের সম্ভ্রম লুটেরা, পাকি দোসর, অর্ধশত গ্রামীণ জনপদে 'মেলিটারি' নামের আতঙ্ক, খাড়দিয়ার বাচ্চু রাজাকারই এখন টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলামী মূল্যবোধ নিয়ে মতামতদানকারী ফতোয়াবাজ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। ফতোয়া সম্পর্কে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়ের বিরম্নদ্ধে সুপ্রীমকোর্টে লিভ আবেদনকারী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ স্বাধীনতাকামী বীর বাঙালীর বিরুদ্ধে পাক হায়েনার দোসর হয়েছিল। চালিয়েছে গণহত্যা, নির্যাতন, লুটপাট, অগি্নসংযোগ। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ, জায়গাজমি দখলে ফরিদপুর অঞ্চলে এক আতঙ্কের নাম বাচ্চু রাজাকার।
ফরিদপুরের দুই বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান আলী ও আমিনুর রহমান ফরিদ বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিন হাজার বাড়ি লুণ্ঠনকারী, এক হাজার ঘরবাড়ি-দোকানে অগ্নিসংযোগকারী, মুক্তিপাগল শতাধিক মানুষ হত্যাকারী এবং শতাধিক মা-বোনের সম্ভ্রম লুটেরা বাচ্চু রাজাকার মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে ফরিদপুর শহরে চকবাজারের একটি বাড়ি দখল করে আস্তানা গেড়েছিল। সেখানেই নির্যাতিত হয়েছে অসংখ্য মা-বোন। ফরিদপুরের মানুষ এবার বাচ্চু রাজাকারের বিচার চায়।
একাত্তরে ঘোসাই পদ বিশ্বাসের নববধূ শোভা রানীর সম্ভ্রম লুটে নিয়েছিল আজকের মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে খাড়দিয়ার কুখ্যাত সেই বাচ্চু রাজাকার।
স্বামী-সন্তান নিয়ে জীবনমৃত শোভা এখনও নরপশুদের পাশবিকতা শরীর-মন দিয়ে অনুভব করেন। নারীর অস্তিত্বের আবরণ_ সম্ভ্রম হারানোর পর একবুক যন্ত্রণা বয়ে
বেড়াচ্ছেন শোভা রানী। শত চেষ্টা করেও শোভা রানী সেই দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে পারছেন না। একই গ্রামের নগেন বিশ্বাসের স্ত্রী দেবী বিশ্বাসেরও সম্ভ্রম লুটেছিল এই বাচ্চু
রাজাকার। সেই লজ্জায়-যন্ত্রণায় গ্রাম ছেড়েছিলেন দেবী। আর কখনও গ্রামে ফিরে আসেননি। অমানবিক লোলুপতা আর পাশবিক উন্মাদনায় ফরিদপুরের ৫০ গ্রামের নারীর
কাছে আতঙ্কের নাম বাচ্চু রাজাকার। কেবল নিজেই নারীর ইজ্জত লুটে নিয়েছেন তা নয়, পাক হায়েনার জন্য সুন্দরী নারীকে জোর করে সেনাক্যাম্পে পৌঁছে দিয়ে আসত
এই বাচ্চু রাজাকার। কেবল ধর্ষণ নয়, নিজ হাতে হত্যাও কম করেনি। কিন্তু এই বাচ্চু রাজাকারের বয়ান এদেশের মুসলমানদের বেসরকারী টিভি চ্যানেলে শুনতে হয়।"
মরণোত্তর পদোন্নতি পেলেন কর্নেল জামিল
শহীদ কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমাদ, পিএসসিকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে মরণোত্তর পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। শহীদ কর্নেল জামিল স্বাধীনতা পরবর্তীকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামরিক সচিব এবং সবশেষে ডিএফআইতে (বর্তমানে ডিজিএফআই) কর্মরত ছিলেন। ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমান টেলিফোনে কর্নেল জামিলকে তার বাসস্থান ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডে তার এবং পরিবারের ওপর হামলার কথা অবহিত করেন। খবর পেয়ে কর্নেল জামিল কয়েক জায়গায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করেন। এরপর তিনি নিজেই ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর বাড়ির দিকে রওনা হন। তিনি সোবহানবাগ এলাকায় পেঁৗছার পর বাধাগ্রস্ত হন এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদতবরণ করেন। তিনি আনুগত্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তার এই মহান দায়িত্ববোধ এবং যথাযথ যোগ্যতার স্বীকৃতিস্বরূপ শহীদ কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমাদকে সরকার ব্রি. জেনারেল (মরণোত্তর) পদে পদোন্নতি দেয়।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নামে অশালীন ইয়াহু গ্রুপ
নিউইয়র্ক, নিউজ৫২: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নামে ইয়াহু গ্রুপ। প্রতিদিন এই গ্রুপ থেকে শত শত অশালীন ইমেল পাঠানো হয় বিভিন্ন ইমেল এড্রেসে। ইমেল এড্রেস লিস্ট থেকে ডিলিট করার আবেদন জানালে আরো
বেশী করে বাজে ইমেল পাঠায়। ধারণা করা হচ্ছে আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্যেই এই ইয়াহুগ্রুপটি খোলা হয়েছে।
গ্রুপটির নাম দেয়া হয়েছে “bangladesh_awamiligh@yahoogroups.com” সাম্প্রতিক
পাঠানো কয়েকটা ইমেলের বিষয় লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে এই গ্রুপে কিধরনের মেল পাঠানে হয়: Increase Sex Timing By using Alcohol, Naughty Wet Sexy Girls seducing Guys, এবং
Sex And Human Body (18+) ইত্যাদি।