![]() |
![]() শিরোনাম যুদ্ধাপরাধের বিচার : কাল ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধীদের যেকোন মুহূর্তে গ্রেফতার বিমানবন্দরে যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা : রেড এলার্ট যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা |
রাজাকারের বিচার চাই যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু
![]() যুদ্ধাপরাধের বিচার : কাল ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু
![]() দৈনিক কালের কণ্ঠ থেকে, ২৬ মার্চ ২০১০ আশরাফ-উল-আলম যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আগামীকাল রবিবার। ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের যাবতীয় কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল স্থাপন সংক্রান্ত কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সলিসিটর (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. শামসুল হক গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, 'আশা করা যাচ্ছে বিচারিক প্যানেলের সদস্যরা রবিবার যোগদান করবেন। তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারাও একই দিনে কাজে যোগ দেবেন।' শামসুল হক আরো জানান, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের এজলাস ও অন্যান্য কক্ষ আন্তর্জাতিক মানের করা হয়েছে। শুধু এজলাস বা অফিসকক্ষই নয়, পুরনো হাইকোর্ট চত্বরটাকেও আন্তর্জাতিক মানের উপযোগী করে সংস্কার করা হয়েছে। এজলাস কক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য তৈরি করা হয়েছে আলাদা লবি। তাঁরা বিচারকাজ পর্যবেক্ষণ করবেন। সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান। আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধাপরাধের বিচারে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল, ১২ সদস্যের আইনজীবী প্যানেল এবং সাত সদস্যের তদন্ত সংস্থার সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হতে কত দিন লাগবে তা এ মুহূর্তে নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। তবে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে কাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে তা এরই মধ্যে সরকার ঠিক করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। সূত্র মতে, প্রথমে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা চাইলে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কিছুদিন ধরে দেশের কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। ১৯৭১ সালে দেশি-বিদেশি পত্রিকা এবং যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য নিয়ে তদন্ত সংস্থা কাজ শুরু করবে। একজন তদন্ত কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখনো তদন্তের বিষয়ে দিক-নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। সবাই দায়িত্ব নেওয়ার পর আলোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। নির্দোষ কেউ হয়রানির শিকার হবেন না। দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই তদন্তকাজ শুরু হবে বলে তিনি মনে করেন। অপর একটি সূত্র জানায়, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সরকার অভিযোগ উত্থাপনের পর তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিক তালিকায় ৩৬ জন যুদ্ধাপরাধীর নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম ৫০ জন যুদ্ধাপরাধীর একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকায় থাকা জীবিত যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে আটজন হচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতা। একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ৬০০ জন যুদ্ধাপরাধীর একটি তালিকা প্রকাশ করে। ওইসব তালিকা ধরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শেষ করেছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাকালীন অবস্থায় যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং ওই সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই বছর ধরে সারা দেশে যেসব মামলা হয়েছে সেসব বিষয়েও গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য-উপাত্ত নিয়েছে বলে সূত্র জানায়। সরকারের পাশাপাশি ১৯৭১ সালে ক্ষতিগ্রস্ত যেকোনো ব্যক্তিও ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেও তদন্ত করবে তদন্তকারী সংস্থা। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) অ্যাক্ট ১৯৭৩-এর ৬ ধারা অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. নিজামুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এ ছাড়া অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপুকে প্রধান করে গঠিত ১২ সদস্যের আইনজীবী প্যানেল এবং সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবদুল মতিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত সংস্থা গঠন করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন
![]() সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধীদের যেকোন মুহূর্তে গ্রেফতার
দৈনিক ইত্তেফাক থেকে, ২৬ মার্চ ২০১০ সমীর কুমার দে সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধীদের যে কোন সময় গ্রেফতার করা হতে পারে। প্রথম তালিকায় থাকা ৩৬ জন সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই এই তালিকা জমা দেওয়া হবে যুদ্ধপরাধের অভিযোগ তদন্তে গঠিত তদন্ত সংস্থার হাতে। কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা দীর্ঘ এক মাসেরও বেশী সময় তদন্ত করে এই তালিকা প্রস্তুত করেছে বলে জানা গেছে। তালিকায় থাকা ৩৬ জনের মধ্যে ৬ জন বিএনপি নেতা ও একজন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) নেতা রয়েছেন। এছাড়া অন্য ২৯ জনের সবাই কম-বেশি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অভিযুক্তদের দেশ ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যে কোন সময় তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজারবাগে শহীদ পুলিশ সদস্যদের স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, তালিকায় থাকা এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় অপরাধ সংঘটনের অভিযোগের তথ্য উপাত্ত গোয়েন্দা সদস্যরা সংগ্রহ করেছেন। তারা কথা বলেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় আহত বা পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে। সংগ্রহ করেছেন বিভিন্ন দলিলপত্র। বিশেষ করে জামায়াতের দলীয় মুখপত্র হিসাবে সংগ্রাম পত্রিকায় প্রকাশিত খবরকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। দেশী ছাড়াও বিদেশী পত্রিকার খবর ও দলিলপত্র এখন গোয়েন্দাদের হাতে। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, প্রথম দফায় বিচারের জন্য তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের অভিযোগ প্রমাণের মতো তথ্য ও সাক্ষ্য তারা সংগ্রহ করেছেন। তারপরও এগুলো আরও যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। তবে কুখ্যাত অনেক রাজাকার ও আল বদরের নাম পাওয়া গেলেও তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। ফলে প্রাথমিক তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীকালে তথ্য উপাত্ত পাওয়া গেলে তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তালিকায় থাকা বিএনপি নেতাদের মধ্যে আছেন- সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোশারফ হোসেন শাহজাহান, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, তার ভাই গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাজধানীর মিরপুরের সংসদ সদস্য এস এ খালেক, জয়পুরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল আলীম ও গাইবান্ধার আবু সালেহ মোহাম্মদ আজিজ মিয়া। তালিকায় থাকা জাতীয় পার্টির (এ) একমাত্র সদস্য যশোরের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন। তিনি ১৯৯১ সালে জামায়াতের প্রার্থী হিসাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে যোগ দেন বিএনপিতে। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর সর্বশেষ নবম জাতীয় সংসদের আগে তিনি জাতীয় পার্টিতে (এ) যোগ দিয়ে মনোনয়ন নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতৃতাধীন ১৪ দলের সঙ্গে জাতীয় পার্টি (এ) যোগ দিয়ে মহাজোট হলে মাওলানা সাখাওয়াত নির্বাচন করার সুযোগ পাননি। তিনি বর্তমানে জাতীয় পার্টির (এ) প্রেসিডিয়াম সদস্য। জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের নাম রয়েছে তালিকার প্রথমে। রাজনীতি থেকে তিনি অবসর নিয়েছেন। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করে নিজের বাড়িতে নীরবে সময় কাটাচ্ছেন। জামায়াতের অন্য নেতারা হলেন- বর্তমান আমির মওলানা মতিউর রহমান নিজামী (পাবনা), সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ (ফরিদপুর), সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান (শেরপুর), আবদুল কাদের মোল্লা (ফরিদপুর), এটিএম আজহারুল ইসলাম (রংপুর), নায়েবে আমীর মাওলানা এ কে এম ইউসুফ, মাওলানা আবদুস সুবহান (পাবনা), মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (পিরোজপুর), কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলী (চট্টগ্রাম), সাতক্ষীরার সাবেক সংসদ সদস্য রিয়াছাত আলী বিশ¡াস ও গাজী নজরুল ইসলাম, জামায়াতের রুকন এ বি এম খালেক মজুমদার (চাঁদপুর), মীর কাশেম আলী (ঢাকা), মওলানা হাবিবুর রহমান (সিলেট), খুলনার সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ রুহুল কুদ্দুস, মওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী (সিলেট), মওলানা আবদুল হাকিম (ঠাকুরগাঁও), মওলানা হাবিবুর রহমান (চুয়াডাঙ্গা), ফজলুর রহমান সুলতান (ময়মনসিংহ), মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু মিয়া (ফরিদপুর), জামায়াতের ঢাকা মহানগর শাখার সাবেক আমীর গোলাম সারওয়ার (লক্ষ্মীপুর), ইঞ্জিনিয়ার আবদুল জব্বার (বরিশাল), খুলনার সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ফজলুর রহমান সুলতান (ময়মনসিংহ), ডা. কাজী এমদাদুল হক (ফরিদপুর), আমীর আলী (নোয়াখালী) এবং রফিকুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ)। বিমানবন্দরে যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা : রেড এলার্ট
দৈনিক যুগান্তর, ২৭ মার্চ ২০১০ মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনাল গঠনের দু’দিন পর শনিবার শাহজালাল বিমানবন্দরসহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা পাঠানো হয়েছে। এসব বিমানবন্দরে জারি করা হয়েছে রেড এলার্ট। এ তালিকায় ১৭ চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর নাম রয়েছে। চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা যাতে এসব বিমানবন্দর ব্যবহার করে দেশের বাইরে পালাতে না পারে, সেজন্য ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পালানোর চেষ্টা করলে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশের বিশেষ শাখার মাধ্যমে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে ১৭ চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর নামের তালিকা পাঠায়। এরপর বিমানবন্দরে জারি করা হয় রেড এলার্ট। বিমানবন্দরে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। তালিকা ও নির্দেশ পাওয়ার পর গোয়েন্দাদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে বিমানবন্দরে। ইমিগ্রেশন পুলিশকে সতর্ক করার পর ভুয়া পাসপোর্ট বা অন্য কারও পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করে ছদ্মনামে যাতে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা দেশত্যাগ করতে না পারে সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে। এনিয়ে বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের তালিকা পাঠানো হল। মাস দু’য়েক আগে প্রথম দফায় ২১ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর নাম বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছিল। পুলিশের ইমিগ্রেশন সূত্র বলেছে, এর আগে প্রথম দফায় যে ২১ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর তালিকা পাঠিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাতে গতকাল পাঠানো ১৭ জনের নামও ছিল। এদিকে একটি সূত্র বলেছে, রেড এলার্ট জারির মাত্র একদিন আগেই বিদেশে পালিয়ে গেছেন চিহ্নিত এক যুদ্ধাপরাধী। তবে তার নাম বলেনি ওই সূত্র। এ বিষয়ে অন্যান্য সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সূত্র বলেছে, শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘রেড এলার্ট’ জারি করা হয়। পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে ১৭ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর তালিকা পাঠিয়ে তাদের গ্রেফতারের নির্দেশও দেয়া হয়। তাতে এই ১৭ জনের নাম ছিল। ‘রেড এলার্ট’ জারির সঙ্গে সঙ্গে পালানোর চেষ্টা করলে ইমিগ্রেশন পুলিশকে যেসব চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে গ্র্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তারা হচ্ছেনÑ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, বর্তমান আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, এটিএম আজহারুল ইসলাম, আবদুল কাদের মোল্লা, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবদুস সোবহান, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাশেম আলী, মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ (বাচ্চু মিয়া), মাওলানা শাখাওয়াত হোসেন, সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা মোশারেফ হোসেন শাজাহান, ডা. কাজী এমদাদুল হক ও এবিএম খালেক মজুমদার। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, এর আগে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া না হলেও এবার গ্রেফতারের জন্য আদেশ জারি হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকায় শনিবার থেকেই ‘রেড এলার্ট’ জারি করা হয়। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘রেড এলার্ট’ জারির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
দৈনিক ইত্তেফাক, ২৭ মার্চ ২০১০ বাসস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের প্রতি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলার মাটিতে অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি আরো বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। তখন বিভিন্ন জেলে যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ১১ হাজার বন্দী ছিল। আসামির সংখ্যা ছিল প্রায় ২২ হাজার। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুধু বন্ধ করাই হয়নি তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এমপি করে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল। এমনকি বঙ্গবন্ধু যে গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিল করেন, এক ব্যক্তির ইচ্ছায় তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য সম্পাদনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যেমন করে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারের রায় কার্যকর হয়েছে তেমনি যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার এদেশে অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।’ ‘দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের এতদিন পরও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে এবং কয়েকদিন আগেও ৯০ বছরের এক বৃদ্ধকে যুদ্ধাপরাধী হিসাবে সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়ার কোন কারণ নেই । তিনি বলেন, ‘এই বিচারের মধ্য দিয়ে আমরা জাতিকে অভিশাপ মুক্ত করতে চাই।’ আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় আরো বক্তৃতা করেন আওয়ামী লীগ নেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মাহবুবুল আলম হানিফ, এডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, রিয়াজউদ্দিন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এবং দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক অধ্যাপক মুস্তাফা নূর-উল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ছড়া পাঠ করেন আওয়ামী লীগ নেতা এবং বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি ক্ষমতা দখল করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল লক্ষ্যকে ধ্বংস করে দেয়। পুনর্বাসিত করা হয় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যাতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে না পারে সেজন্য ছাত্র-ছাত্রীদের বিকৃত ইতিহাস পাঠ করতে বাধ্য করা হয়। শেখ হাসিনা স্বাধীনতার ৩৯ বছর পরও দেশে কাঙিক্ষত উন্নতি না হওয়ায় বারবার গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়াকে দায়ী করে বলেন, বর্তমান সরকারের দেড় বছরসহ আওয়ামী লীগ মাত্র সাড়ে দশ বছর ক্ষমতায় ছিল। আর বাকি ২৮ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা দেশকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জেলখানায় নিহত জাতীয় চার নেতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। |