NYnews52.com a e-news paper in Bengali and English with video excerpts.
Logo: NYnews52.com

Back to Front Page

বেলাল বেগের অন্যান্য লেখা:

  • যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
  • একজন সোনার মানুষ দেখেছি
  • বাংলাদেশের রাজনৈতিক চিকিৎসা
  • রাজনীতিবাজ রাজনীতিবীদ ও জনগণ
  • চীৎকার সংস্কৃতি
  • ফালতু চীৎকার
  • পুরানো ক্ষতে খোঁচার যন্ত্রণা
  • নিমতলীর নরককুণ্ড বাংলাদেশের নিয়তী
  • কে বাঁচাবে বাংলাদেশ?
  • আবার বুঝি জাগছে বাঙালী
  • ভূতুড়ে রাজনীতি তাড়িয়ে দিন
  • নিউইয়র্কে সেদিন সন্ধ্যায় যা ঘটেছিল
  • সাবধান বাঙালী! এখন যুদ্ধাবস্থা
  • রক্ষীবাহিনীর জুজুর ভয়
  • সামাজিক ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের সন্ধানে
  • এক দল অমানুষ ও প্রেতাত্মার গল্প
  • আমি লীগের খপ্পরে আওয়ামী লীগ
  • মুক্তচিন্তা


    কিসের এতো কথা


    বেলাল বেগ

    ওরা রাতে দেখে, দিনে দেখেনা


    পরিচয় না থাকলে ভদ্রলোককে আমি ধান্ধাবাজ হিসাবে গারবেজ করে দিতাম। পরিচয় হওয়াতেই আর পারা গেল না। আত্মজাহিরাতে চমকপূর্ণ তাঁর নানাবিধ কার্যকলাপ নিউইয়র্কবাসী বাঙালীদের না দেখে উপায় নেই। তবে কেউ কিছু বলে না। এই না বলাটাকে অনেকের মত ঐ ভদ্রলোকও নিজের প্রচছন্ন সমর্থন হিসাবে মনে করেন। অথচ দশজনের সমর্থনপুষ্ট যে জায়গাগুলি আছে, সেখানে তাঁর নাম নেই।
    নিউইয়র্ক বাঙালীদের এ না বলার সংস্কৃতি গড়ে উঠার অনেক কারণ আছে। একটা প্রধান কারণ এখানে একাত্তরের রাজাকার-আলবদর সহ পলাতক খুনী, বদমায়েস, চোরবাটপার, ঘুষখোর, থেকে আরম্ভ করে খেটে খাওয়া মানুষ, শিল্পী-সাহিত্যিক, উকিল-সাংবাদিক, মেধাবী ছাত্র-শিক্ষক, পন্ডিত-গবেষক সব ধরণের মানুষ এসেছে। এ মানুষগুলি সবাই যে বৈধভাবে এসেছে বা বৈধভাবে থাকছে তাও নয়। কোথায় কিভাবে নিজের দুনম্বরী পরিচয় ফাঁস হয়ে ফ্যাসাদে পড়বে এমন ভয় কমবেশি সবারই মনে থাকে। এখানে অর্থোপার্জন সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষা দিবারাত্রির সংগ্রাম। ভেবে দেখুন ঢাকার একজন এমবিবিএস ডাক্তার আমেরিকান ডাক্তারের চেম্বারের কেরাণী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেনীতে মাস্টারস একজন সেন্ট্রাল পার্কে হট ডগ বেচেন। কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপিকা মুদীর দোকানের কর্মচারী। তাঁরা কি কেউ খালি খালি নিজের পরিচয় দিতে চাইবেন? বিরাট সংখ্যক শিক্ষিত মানুষের সাত পাঁচে না থাকার এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু মানুষ ফোকটে নাম-যশ কিনে নিজেদের একটা কিছু হনু মনে করে এবং নেতা বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতা হবার জন্য নানারকম তৎপরতা চালায়।
    নিউইয়র্কের গোটা সামাজিক পরিস্থিতি এ সত্যটাই প্রতিষ্ঠিত করেছে যে এখানে বসবাসরত বাঙালীদের মধ্যে তাৎপর্যপর্ণ সমাজ-বন্ধন গড়ে উঠেনি। বাঙালী সমাজটা যেন শীতকালে পানির উপর জমে থাকা বরফের স্তর দেখতে শক্ত এবং নিরাপদ অথচ তার ভিত্তিই নেই। এ সমাজহীন সমাজে কোন কিছুর দাম নেই; দুটো ডলার আয় ছাড়া আর সবই মিছে। এমন সমাজে বাংলাদেশী রাজনীতির আলখোল্লা গায়ে যারা চলাফেরা করেন, তাদের উদ্দেশ্য বহুব্রীহী ধান্ধাবাজী, রাজনীতি নয়। রাজনীতি হলে সুসংবদ্ধ সংগঠন থাকত, নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি, দায়িত্বপর্ণ কর্মকর্তারা থাকত; থাকত ক্রমবর্দ্ধমান তহবিল, থাকত এগিয়ে চলার বার্ষিক কর্মসচী এবং ভবিষ্যত লক্ষ্য ও পরিকল্পনা। কোন আদর্শ বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত্বাধীন বৈধ নেতৃত্ব না থাকায়, নিউইয়র্কে গাঁয়ে মানেনা আপনি মোড়ল নেতাদের খিস্তি-খেউর প্রতিযোগিতা ও মোরগলড়াই নিত্য লেগে থাকে। প্রবাসে এই জাতীয় তথাকথিত রাজনীতিকরা একটা অদ্ভূত রোগে আক্রাš হয়েছে। ঐ রোগের কারণে ওরা রাতের অন্ধকারে চোখ খোলে আর দিনের আলোতে বন্ধ রাখে। রোগটির নাম দেয়া যায় রাত-চোখা-দিন-কানা। যে সম¯ প্রানী রাতের অন্ধকারে দেখে তাদের কেবল চোখ দেখা যায়, শরীর দেখা যায়না। ঐ প্রানীদের মত যারা রাজনীতি করে তারা নিজেদের উদ্দেশ্য গোপন রেখে ঘোট পাকায়, ষড়যন্ত্র করে কিন্তু দিনের আলোর মত প্রকাশ্য ও স্বচছ হয়না। এ রোগ হবার আরও একটি কারণ দিনের বেলায় পেটের দায়ে নাক-মুখ-চোখ বন্ধ রেখে কাজ করতে হয়। প্রানান্তকর কাজ শেষে সনধ্যায় মনোরঞ্জনের জন্যই চোখ খুলে রাজনীতি মানে রাজা-উজির মারা খেলা খেলতে হয়। এ রকম চরিত্রের, আমার পর্বপরিচিত ডাক্তার ভদ্রলোকের সংগে একটু ঘনিষ্ঠ হয়ে এবং তাঁর পড়াশোনার ব্যাপকতা বিশেষ করে ইতহাসের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। কথায় কথায় জানালেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলেন। জানালেন তিনি বিএনপি সমর্থক। মনে মনে বিষম খেলাম। একজন মুক্তিযোদ্ধা কিছুতেই বিএনপি-রাজনীতি করতে পারেন না। যদি কেউ করেন, তাঁর কোথাও একটি মারাত্মক ভুল হয়েছে। খতিয়ে দেখলে দেখা যাবে পাঁচ প্রকারের মানুষ বিএনপি করে।
    ১. একাত্তরে স্বাধীন বাংলা বেতারে তদানীন্তন মেজর জিয়ার কন্ঠস্বর শুনে যারা তাঁর অন্ধভক্ত হয়েছিলেন তারা, তাদের বংশধরগন এবং ৭৫ পরবর্তী মিডিয়া-নির্মিত জিয়া-ইমেজের কুহকে বিশ্বাসীরা
    ২. সামপ্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে বেড়ে উঠা মানুষ যারা বাঙালী জাতির হাজার বছরের আসামপ্রদায়িক বা সেক্যুলার সংস্কৃতি সম্মন্ধে অনবহিত বা উদাসীন থেকেছেন অথবা রাজনীতি ও ধর্মের সাংঘার্ষিক সম্পর্কের বিষয়টি অনুধাবনের প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধী করার সময় ও সুযোগ পান নি।
    ৩. একাত্তরে পরাজিত শত্রু-জোট এবং তার বাংলাদেশী দালালগন বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে এবং আওয়ামি লীগের চার শীর্ষনেতাকে হত্যা করে গোপনে বাংলাদেশ দখল করে নিয়ে পাকিন্তানী রাষ্ট্রীয় আদর্শ অর্থাৎ ধর্মীয় সামপ্রদায়িকতা পুনঃ প্রবর্তন করেছিল। বিশ্বসঘাতকেরা ক্ষমতা স্থায়ী করার তাৎক্ষনিক লক্ষে অর্থ-বিত্ত-ক্ষমতার নানা রকম প্রলোভনে দেশটাকে সয়লাভ করে দিয়েছিল। ভাত ছিটালে কাকের অভাব হয় না। তাই বন্যার পানির মত জিয়ার দলে লোক বেড়েছিল।
    ৪. পাকিস্তান ও জামাতে ইসলামীর গোপন এজেন্ট
    ৫. আওয়ামি লীগের প্রতি যাদের ঘৃণা জন্মেছিল
    আমি আগেই বলেছি, একজন মুক্তিযোদ্ধা বিএনপি রাজনীতি করতে পারেন না। যিনি করেন তিনি উপরোক্ত পাঁচ কিসিমের একজন। আমার পরিচিত ভদ্রলোক কোন তালিকায় পড়েন তা তাঁর মুখ থেকে শোনা হয়নি। তবে তাঁর পড়াশোনার গতি-প্রকৃতি ও পারিবারিক শিক্ষাদীক্ষার ঐতিহ্য অনুযায়ি হয়ত সৎভাবেই বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। তাঁর মত লক্ষ লক্ষ মানুষ এখনও একই কারণে বিএনপিতে আছে। এরা পাকিস্তানীদের মত এখনও বিশ্বাস করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি মুসলমানের। রাষ্ট্র যে ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে নিরাপত্তাসহ সকল মানুষের জীবন সার্থক করার একটি যšমাত্র, আধুনিক যুগের এ সহজ সত্যটি চট করে এঁদের মাথায় ঢোকেনা। এঁদের এ সহজ সরল সহজিয়া বিশ্বাসকে পুঁজি করেই জামাতে ইসলাম বা মৌদুদীবাদ মুক্তিযুদ্ধারা তো বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করেছে এবং এখন জঙ্গিবাদের রাক্ষস হয়ে মানুষের সমাজে ত্রাসের সৃষ্টি করে চলেছে। এ বেকুব বিশ্বাসীগন একবারও ভেবে দেখেনি যে পাকি¯ান ছিল হিন্দুদের হাত থেকে মুসলমানদের বাঁচানর নামে একটি জঘন্য ভাওতাবাজি। পাকি¯ানের প্রতিষ্ঠাতাগন যদি রাজনীতির ধরা-ছোঁয়ার ঊর্দ্ধে অবস্থানকারী সার্বজনীন শাšির ধর্ম ইসলামের কথাই ভাবতেন, তাহলে, পাকি¯ানের চেয়ে সংখ্যায় বেশি মুসলমানকে ভারতে ফেলে আসতেন না। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ অনুযায়ী পাকিস্তান যেমন ডাহা মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত তেমনি মুসলিম লীগও রাজনীতিতে ভূয়াদল এবং তারই বাংলাদেশী সংস্করণ বিএনপি একটি রাজনৈতিক প্রতারক। এ সব জেনে একজন মুক্তিযোদ্ধা কখনই বিএনপি রাজনীতি করতে পারেনা। তবে চরিত্র ও আদর্শভ্রষ্ট মুক্তিযোদ্ধাদের কথা স্বতš। মৃত্যুর মুখেও বঙ্গবন্ধু একজন মুক্তিযোদ্ধার অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন। সেই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ক্ষমতায় আগতদের আদর্শে গড়া বিএনপিতে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কখনই যোগ দিতে পারেন না; এমন কি আওয়ামি লীগের উপর বিরক্ত হলেও না। তাই, আমার সন্দেহ হয়েছিল, বিএনপি করুয়া ডাক্তার ভদ্রলোক আদৌ মুক্তিযোদ্ধা কিনা। কিন্তু আলাপে স্পষ্ট বোঝা যায় তিনি যথার্থই একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাই আমি নিশ্চিত তিনি ভুল করে বিএনপিতে আছেন।

    শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লীগ সরকার ১৯৭৫এর বিশ্বাসঘাতকতায় ভূলুন্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের গৌরব এবং ছিনতাইকৃত স্বাধীনতার পুনরুদ্ধার যুদ্ধ শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়ায় দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে সংঘটিত সকল ষড়যš যতই উদ্ঘাটিত, মিথ্যার ধম্রজাল সত্যের আলোকে যতই স্বচছ হচেছ , ততই জিয়া এরশাদদের আসল রূপ বেরিয়ে আসছে। আমাদের হাইকোর্ট রায় দিয়ে ঘোষণা দিয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এরশাদ পর্যš সব সরকারই বেআইনী এবং জিয়া- এরশাদ রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধী।
    হাইকোর্টের রায়ের ফলে বাঙালি জাতির ক্রমোত্থানের পথ নিষ্কন্টক এবং তার ইতিহাস রাহুমুক্ত হয়েছে। জাতির বিবেক পুনরায় জাগ্রত হয়েছে। এবার জনগনের আশা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কল্যাণের সুনামি হয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে গত পঁয়ত্রিশ বছরের অন্যায়-অবিচারের পুঞ্জিভূত আবর্জনা। মুক্তির মোহনায় আবার মিলিত হবেন স্বাধীনতার অতন্ত্র প্রহরী, অমৃতের সন্তান-বাংলার মুক্তিযোদ্ধারা। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হলে সদ্য ঘনিষ্ঠ ডাক্তার সাহেব কি বিএনপিতে থেকে যেতে পারেন?





    ।।এই লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত দিন।।