![]() |
Back to Front Page বেলাল বেগের অন্যান্য লেখা: |
মুক্তচিন্তা কিসের এতো কথা ![]() বেলাল বেগনিউইয়র্কে সেদিন সন্ধ্যায় যা ঘটেছিল
এস্টোরিয়ায় ক্লাব সনমে উপস্থিত স্বল্প সংখ্যক ভাগ্যবান দর্শক এগার জুলাইয়ের সন্ধ্যাটিকে অনেকদিন স্মৃতির মণিকোঠায় ধরে রাখবেন। ঐ দিন রুচিশীল উপস্থাপনা-সৃষ্ট আবহে প্রবাসের বেশ ক’জন খ্যাতিমান গীত, নৃত্য, বাদ্য ও আবৃতি শিল্পী, মনের সমস্ত মাধুরী ঢেলে, আপন আপন প্রতিভার পেখম মেলে ধরেছিলেন। দর্শক-শ্রোতার কৃতজ্ঞতার বাইরে ডলার নয়, শিল্পীরা প্রত্যেকে ধন্য হয়েছিলেন এক বৃন্তে একটি মাত্র ফুল পেয়ে। শিল্পীদের এমন অনুপ্রেরণার উৎস কি ছিল তা বুঝতে পেরেছেন কেবল সে সন্ধ্যার দর্শক-শ্রোতারাই। কারণ, অনুষ্ঠানের শুরুটাই হয়েছিল একটি ছোট মাপের ভিডিও প্রদর্শনী দিয়ে। ভিডিওটি শেষ হয়েছিল বাংলা ছায়াছবি মরুতীর্থ হিংলাজে আমাদের কিংবদন্তী গায়ক হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া বিষাদ-ঝরা ’কত দূর আর কতদূর’ গানটির উপর চাপানো ঝড়, জলোচ্ছাস, বন্যা প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নিহত, বিধ্বস্থ, বিপর্যস্থ বাংলার মানুষের করুণ সব দৃশ্য। সে সব দৃশ্য দর্শকদের সংগে শিল্পীদের মনকেও দুমড়ে মুচড়ে একাকার করে দিয়েছিল। মানবতাবোধ অন্তরের গভীরে প্রবেশ করায়, সেদিনের সনধ্যায় সংবেদনশীল শিল্পী সত্ত্বার এক অসাধারন প্রকাশ ঘটেছিল। বেন এর অনুষ্ঠানটিকে সেদিন যাঁরা স্মরনীয় করেছেন তাঁরা হলেন- কাবেরী দাস, পারমিতা দাস, অদীতি, আরজু মোমেন, সফিকুর রহমান, তাজুল ইমাম, মোশেদ খান, সেমন্তী ওয়াহেদ, তপন মোদক এবং সজীব মোদক, ইভান চৌধুরী এবং শীতেশ ধর। ক্লাব সনমের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনকারীদের সংস্থা ‘বেন’। ‘বেন’ নামটি সংস্থাটির ইংরেজী নাম ‘ব্যাংলাডেশ এনভাইওরমেন্ট নেটোয়ার্ক’ এর আদ্যাক্ষরগুলির সমাহার। প্রবাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশী পরিবেশ বিজ্ঞানী, শিক্ষক, গবেষক, অর্থনীতিবীদ, আইনজীবী সহ বিভিন্ন পেশার দেশপ্রেমিক মানুষেরা সংগঠনটি গঠন করেছেন ১৯৯৮ সালে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন এবং দেশীয় মানুষের অজ্ঞতা, লোভ, দায়িত্বহীনতা ইত্যাদি কারণে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ যে ক্রমাগতভাবে মানুষের বসবাস ও প্রাণীকূলের অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে সে স¤¦ন্ধে সরকার ও জনসাধারণকে সচেতন করা এবং বাংলাদেশের পরিবেশবাদীদের সংস্থা বাপাকে (বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন) অর্থসহ সর্বপ্রকার সাহায্য-সহযোগিতা করা। বাংলাদেশের পরিবেশ-মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক ও সামাজিক নষ্টায়ন থেকে বাঁচানোর জন্য বেন সরকার কিংবা কোন দাতাগোষ্ঠীর দান অনুদান গ্রহন করেনা। জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত সদস্যদের নিজেদের চাঁদা দিয়েই ’বেন’ চলছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বাপার কর্মসূচির ব্যাপক প্রসার ও এর সাংগঠনিক বিস্তৃতি ঘটায় অর্থের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে । অর্থ সংগ্রহে বেন তাই প্রবাসী বাঙালীদের দ্বারস্থ হবার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রবাসে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগগুলিকে মানুষ এখন সহজভাবে নিতে চায় না। তবে কোন কাজের উদ্দেশ্য মহৎ প্রমানিত হলে মানুষ সাড়া দেয়। কিন্তু সংগঠনটির ব্যাপক পরিচিতি না থাকায় বেন সাধারন মানুষের কাছে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরার জন্য আলোচ্য অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল। প্রথম অনুষ্ঠান বিধায় তহবিল সংগ্রহের ব্যাপারটি জোড়াল করে বলা হয়নি। আবার অনুষ্ঠানে দর্শক-শ্রোতার কম উপস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানের আসল উদ্দেশ্য অর্থাৎ পরিচিত হওয়া, তাও আশানুরূপ সার্থক হয়নি। তবে আশা করা হচ্ছে নিউইয়র্কের সাপ্তাহিকগুলিতে অনুষ্ঠানের সংবাদ প্রকাশ হলে মানুষ সংগঠনটি স¤¦ন্ধে জানতে পারবে। তবে এ পর্যায়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসবে তার আশা করা যায় না। কিন্তু সেদিন যদি হলভর্তি মানুষ বেন এর স্বল্পদৈর্ঘ ভিডিওটি দেখতে পেত, তার একটি তাৎক্ষনিক প্রভাব পড়ত। বেন আশা করছিল বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে নিউইয়র্কের পত্রিকাগুলি উদ্যোগে বেন এর অনুষ্ঠানটির পূর্ব-প্রচারণা চালাবে। কিন্তু সেখানে চেতনার মশালগুলি এখনও ভাল করে জ¦লেনি বলে বেন সে সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কাজটি যে বেন নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সীমিত সংখ্যক মানুষের নয় বরং সকলেরই জরুরী কর্তব্য এ বোধটির উদ্বোধনে যত দেরী হবে, ততই মাটি ও মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ এলাকা তলিয়ে গিয়ে তিন কোটি মানুষ যদি সত্যি সত্যি উদ্বাস্তু হয়ে পড়ে, তাদের মধ্যে পাঠকদের কি পরিমান অত্বীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব থাকবে, তা ভাবতেই শিউরে উঠতে হয়। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের একটি করে সামাজিক সংগঠন আছে। তারা এগিয়ে এলে বেন-বাপার অর্থায়নের সমস্যা নস্যিতুল্য। তাদের মাঝে এমন সংগঠনও আছে যারা একাই বাংলাদেশের পরিবেশ আন্দোলনের খরচ বহন করতে পারে। কিন্তু ‘হায় রে কপাল মন্দ, চোখ থাকিতে অন্ধ’। খালেদা-হাসিনা বিতর্কে নেশাগ্রস্ত ও বিভক্ত সমিতিগুলি বছরে একটা পিকনিক এবং স্বগোত্রীয়দের লাশ দেশে পাঠানর বাইরে খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে বলে জানা নেই। |
।।এই লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত দিন।।