![]() |
Back to Front Page বেলাল বেগের অন্যান্য লেখা: |
মুক্তচিন্তা কিসের এতো কথা ![]() বেলাল বেগনিমতলীর নরককুণ্ড বাংলাদেশের নিয়তীগত প্রায় দু'মাস ধরে মেক্সিকো উপসাগরে সমুদ্রের চার হাজার ফুট গভীরে তেলখনির পাইপ ফেটে তীব্রবেগে তেল ছুটে বেরুচ্ছে। সমুদ্রের উপরিভাগে বিশাল আস্তরণ তৈরি করে এ তেল এখন যুক্তরাষ্ট্রের তীরভাগেও হামলা শুরু করেছে। সামুদ্রিক খেচর ও জলচর প্রানীকূলের অস্তিত্ব বিপন্ন করা ছাড়াও এ তেল-গজব ঐ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষিত করে মানবজাতির জন্য একটি বড় ধরণের হুমকি তৈরি করেছে। মানুষের লোভ ও অসংযমের কারণে বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে ইতোমধ্যেই প্রাকৃতিক ভারসাম্যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বহু দেশের নিন্মাংশ জলমগ্ন হয়ে অচিরে একটি মারাত্বক প্রাকৃতিক ও মানবিক দুর্যোগ দেখা দেবে বলে বিজ্ঞানীরা আশংকা করছেন। মা ধরিত্রীর এমন সংকটের দিনে বাংলাদেশের মত পশ্চাদপদ ও দরিদ্র দেশের কি পারিণাম হবে, নিমতলীর চিতার আগুনে তার একটি স্পষ্ট আভাস মিলেছে। নিমতলীর ভয়াবহ আগ্নির নরককুন্ডে এখন পর্যন্ত মৃত মানুষের সংখ্যা ১২৭। হাসপাতালে ক্লিনিকে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে আরো আবালবৃদ্ধবনিতা; আরো সংখ্যা বাড়বে মৃতের। সরকার একটি দিন বরাদ্ধ করে জাতীয় শোকদিবস পালন করেছে এবং সহায্যে কোন রকম গাফিলতি দেখাচ্ছেনা। কিন্তু সরকার কাঁহাতক কি করবে? বহু সংগ্রাম করে সামরিক থাবা থেকে বেঁচে উঠে রাজনৈতিক দলগুলি নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষট্র-ক্ষমতা আবার জনগনের হাতে আনতে সমর্থ হয়েছে বটে কিন্তু ১৯৭৫ সনে পুনঃ জন্মলাভকারী স্বাধীনতার শত্র“দের রাজনৈতিক শক্তি ধ্বংস হয়নি। স্বাধীনতার শত্রু ও দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী জঙ্গিদের মোকাবেলার চলমান হামলার মধ্যে প্রাকৃতিক শত্র“ সিডর ও আইলা আক্রমণ করে বসল বাংলাদেশকে। সরকার যেন পিঠ সোজা করতে পারছেনা। এমন সময় বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত এল নৃশংস বিডিআর বিদ্রোহ। হঠাৎ বাংলাদেশ কেঁপে উঠল। ঠিক সে মুহূর্তে বাঙালী ও বাংলাদেশের আদর্শবিরোধী সামপ্রদায়িক চারদলীয় জোট জনতার সরকারের ওপর হামলা চালাতে যেন ওঁৎ পেতে বসেছিল। তাদেরই শাসনামলে তৈরি যানযট, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, দূর্নীতি, শাসন-বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি সমস্যার আগুনে বাতাস দিয়ে সারা দেশে আগুন ধরিয়ে দেবার চেষ্টা শুরু করল। একই সংগে পাহাড়ী-বাঙালী সমপ্রীতি ধ্বংস করে উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলল পার্বত্য চট্টগ্রামে। এক দিকে অসৎ ব্যবসায়ীরা সংগবদ্ধ হয়েছে দ্রব্যমূল্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে। অন্যদিকে সড়ক দুর্ঘটনা, ট্রেন-দুর্ঘটনা, জাহাজডুবি, লঞ্চদুর্ঘটনা, ভূমিধ্বস, সন্ত্রাসীদের ছুরি-বোমা-গুলির বেপরোয়া আঘাত, ইসলামিদের বোমা হামলা, সরকারের ক্রসফায়ার, এসিড নিক্ষেপ, ধর্ষণ, ভাড়াটিয়া খুনিদের খুনের ব্যবসায় ইত্যাদির কারসাজিতে বাংলাদেশে স্বাভাবিক মৃত্যুর বাইরেও প্রতিদিন বিপুল সংখ্যায় মানুষের অমূল্য জীবন ঝরে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মত দেশগুলিতে এমন পরিস্থিতি হবে, এমন ভবিষ্যতবাণী ২১২ বছর আগে করেছিলেন সমাজবিজ্ঞানী মালথাস। মালথাসের তত্ত্বের সারকথা, লোকসংখ্যা বাড়ে জ্যামেতিক হারে কিন্তু কৃষি উংপাদন বাড়ে গাণিতিক হারে। ফলে একসময় দারিদ্র্য বাড়বে, বাড়বে অসন্তোষ হানাহানি, বাড়বে মৃত্যুর হার। দারিদ্র্য বাড়িয়ে দেবে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং নৈতিক অধঃপতন এবং সেই সংগে হানাহানি ও অস্থিরতা। মানুষ দারিদ্র্য ও পশ্চাদপদতার ঘৃণ্যচক্রে পাক খেতে থাকবে বংশপরম্পরায়। আজকের উন্নত দেশগুলিতে মানুষের সৃজনশীলতা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতির ধারা বহু আগেই মালথাসকে কাঁচকলা দেখিয়ে দিয়েছে। তারা তাদের আবিস্কারগুলিকে কাজে লাগানোর জন্য উপযুক্ত স্থিতিশীল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলি গ্রহন করেছে। কিন্তু স্বাধীনতার প্রায় চল্লিশ বছর পরেও বাংলাদেশ এখনও মালথাসের দোজখে জ¦লছে। নিমতলী তার একটি অতি ক্ষুদ্র উদাহরণ। নিমতলীর বাড়ীগুলিতে ধারনক্ষমতার বাইরে বেড়েছিল মানুষ, বেড়েছিল জীবীকার তাড়নায় বিজ্জনক কর্মকান্ড। চলাচলের স্থানগুলি খেয়ে নিয়েছিল বাড়িঘর। সবই ঘটেছে সকলের চোখের সামনে। কিন্তু কেউ কিছু দেখলনা- পশ্চাদপদতার ঠুলি পরা মানুষগুলির খুলির অন্ধকারে আধুনিক মুক্ত জীবনের আলো ঢোকেনি। |
।।এই লেখাটি সম্পর্কে আপনার মতামত দিন।।