![]() |
![]() ![]() |
![]() সব গ্রন্থই পবিত্র
|
নতুন বই কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ’র ৪৪তম জন্মদিন পালিতওয়াশিংটন আর্ভিং হাইস্কুলনিউইয়র্কে ভিন্ন তিনটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১লা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) উদযাপনের সাথে সাথে কবি হাসানআল আব্দুল্লাহর ৪৪তম জন্মদিন পালিত হয়। প্রথম অনুষ্ঠানটি হয় ওয়াশিংটন আরভিং হাইস্কুলে বাংলা ক্লাবের উদ্যোগে। বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে স্বাগত বক্তব্য, ভিডিও শো, কবিতা আবৃত্তি ইত্যাদির ভেতর দিয়ে বৃহস্পতিবার, ১ বৈশাখ, এ অনুষ্ঠান হয় স্কুলের ৫২৬ নম্বর রুমে। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও একাদশ শ্রেণীর ছাত্র আবুল খায়ের অনিক। আরো বক্তব্য রাখেন স্কুলের ভাইস-পিন্সিপাল সারা হারনানদাজ। অতিথি আবৃত্তিকার সেলিম আফসারী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শামসুর রাহমানের কবিতা আবৃত্তি করেন। স্কুলের গাইডেন্স কাউনসেলর কামেলা স্মিত শামসুর রাহমানরের ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতার ইংরেজী অনুবাদ পড়ে শোনান। তাছাড় হাসানআল আব্দুল্লাহর কবিতা পড়ে শোনান ইন্টারন্যাশনাল হাই ইস্কুলের নবম শ্রেণী দুইছাত্র এ্যারেন ও সুমন। স্বরচিত কবিতা পড়েন আরেক ছাত্র আব্দুল মুহিত। হাসানআল আব্দুল্লাহ বাংলা ক্যালেন্ডারের উৎপত্তির ইতিহাস তুলে ধরেন এবং ছাত্রছাত্রীদের অন্যবাদ জানান তাঁর জন্মদিন পালনের জন্যে। তিনি তাঁর ‘নির্বাচিত কবিতা’ থেকে দুটি কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। পরিশেষে কেক কেটে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত ও কবিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে অরো উপস্থিত ছিলেন স্কুলের প্রিন্সিপল বারনারডো এসকনা, মিস্টার ডেকার, মিস ব্রামবাম প্রমুখ। কবিকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান স্কুলের একদল প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী। ভিডিও নির্মান ও সার্বিক সহযোগীতায় ছিলেন আখতারুণ ভূইয়া, দেবাশিষ কর্মকার, আব্দুল হাই, আব্দুল আজিজ, সৈয়দ রেজা, সাদমান রহমান প্রমুখ। আপ্যায়নে ছিলেন ফ্যামিলি প্যারা মিস এরাগান।বাংলা স্কুলঅন্যদিকে ৩ বৈশাখ (১৬ এপ্রিল) শনিবার ব্রঙ্কের ‘বাংলা স্কুল’-এ অন্য এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষবরণ ও কবির জন্মদিন পালিত হয়। স্কুলের প্রিন্সিপল জনাব আতাউর রহমান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বাংলা ও ইংরেজী ক্যালেন্ডরের মৌলিক পার্থক্যগুলো তুলে ধরেন। তিনি কবি হাসানআল আব্দুল্লাহকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। অতিথিদের মধ্যে প্রফেসর নিকোলাস বার্নস বলেন, “নববর্ষে একজন কবির জন্মদিন এটি অত্যন্ত আনন্দের কথা। তবে তিনি শুধুই বাংলা ভাষার কবি নন। ইতিমধ্যে ইংরেজী কবিতাও তিনি একটি শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পেরেছেন।” প্রফেসর বার্নস জীবনানন্দের কবিতার পাশাপাশি হাসানআল আব্দুল্লাহর কবিতারও ইংরেজী অনুবাদ পড়ে শোনান। লি হ্যারিসন গানে গানে স্কুলের ছেলেমেয়েদের মুগ্ধ করেন। এর আগে অনুষ্ঠান শুরু হয় ‘এসে হে বৈশাখ’ সমবেত সঙ্গীতের মাধ্যমে। বিভিন্ন পর্যায়ে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কবিতা আবৃত্তি ও নববর্ষের সঙ্গীত পরেবেশনা ছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে কবিতা আবৃত্তি করেন কবি নাজনীন সীমন ও আবৃত্তিকার ফারুক ফয়সল। কবি হাসানআল আব্দুল্লাহকে জন্মদিনের মুকুট পরিয়ে দেয় স্কুলের দুই খুদে ছাত্রী। কবি তাঁর বক্তব্যে স্কুলের প্রিন্সিপল, শিক্ষকবৃন্দ ও ছাত্রছাত্রীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। সবশেষে কেক কেটে জন্মদিনের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করে নেয়া হয়। অনুষ্ঠান পরিচালয় ছিলেন স্কুলের শিক্ষিকা রোজিনা ইসলাম। শিল্প নির্দেশনায় শেখ হারুনুর রশিদ ও ক্যামেরায় ছিলেন মতিউর রহমান।কবিভবনকবি পরিবার ও বন্ধুদের আয়োজনে ৪ বৈশাখ (১৭ এপ্রিল) কবিগৃহে আয়োজিত হয় কবির জন্মদিন উপলক্ষে আরো একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। আবৃত্তিকার ফারুক ফয়সলের উপস্থাপনায় শুরুতেই কবিকে শুভেচ্ছা জানান চিত্রপরিচালক কবির আনোয়ার। তিনি বাংলা কবিতায় হাসানআল আব্দুল্লাহকে একটি সুদৃঢ় অবস্থানে দেখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী ও ঘাতক দালাল নিমুল কমিটির নিউইয়র্ক শাখার সভাপতি শফি চৌধুরী বলেন, "হাসানআল ইতিমধ্যে মার্কিনিদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাকে সঙ্গীত পরিবেশনের জন্যে আমন্ত্রন করে নিয়ে গেছেন; তাঁর সাথে মার্কিনিসহ বহির্বিশ্বের কবিদের যে একটি গভীর যোগাযোগ তা সত্যিই আশার সঞ্চার করে।" তিনি হাসানআল আব্দুল্লাহর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য ও কবিতা পাঠে অংশ নেন নাইমুর রহমান, আবু রায়হান, অনিসুর রহমান অপু, নাজনীন সীমন ও জেবু চৌধুরী । সঙ্গীত পরিবেশন করেন শফি চৌধুরী, জলি রায়হান ও ফারুক ফয়সল। কবি জননী জোহরা খাতুন হাসানআল আব্দুল্লাহ জন্ম সময়ের বাল্যকালের স্মৃতিচারণ করেন। কবি তার বক্তব্যে বলেন, "আমি একজন বাস্তববাদি মানুষ, তাই আমাকে সারপ্রইজ করা তেমন সহজ নয়, কিন্তু আজ আমার জন্মদিনের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যে আপনাদের উপস্থিতিতে আমি সত্যিই বিস্মিত হয়েছি।" তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার জন্যে সবাইকে ধন্যবাদ জানান ও কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। পরিশেষে জন্মদিনের কেক ও নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য কবি হাসানআল আব্দুল্লাহ গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার অন্তর্গত তাঁর মাতুলালয় ঘোনাপাড়া গ্রামে ১৩৭৪ বাংলা (১৯৬৭) সালের ১লা বৈশাখ জন্মগ্রহণ করেন। বাবা একাত্তরের শহীদ নাওশের আলী মিয়া, মা জোহরা খাতুন। ‘নির্বাচিত কবিতা’ সহ গদ্যে-পদ্যে গ্রন্থ সংখ্যা ২১। তিনি ম্যানহাটনে অবস্থিত ওয়াশিংটন আর্ভিং হাইস্কুলের ইউনিয়ন স্কয়ার বিজনেস একাডেমির কোওর্ডিনেটর ও গণিতের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। |